কলকাতা

১টি মেয়ের নিষ্পাপ প্রেমের যবনিকায় সোদপুরে ভয়াবহ খুন ?

ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গীতার, যে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো সুভাষকে, আর এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এক বেইমান প্রেমিক, যে নিজের পরিবারের কথা লুকিয়ে ঠকিয়েছিলো একজন নিষ্পাপ যুবতীকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রেমময় এই দেশে এখন প্রেমের এক অদ্ভুত এবং নৃশংস বহির্প্রকাশ দেখছে মানুষ, শ্রীচৈতন্যদেব, শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের বাংলায় “আই লাভ ইউ” বলতে বলতে অনায়াসে প্রেয়সীর গলায় কোপ বসাচ্ছে প্রেমিক, বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে নিয়ে হবু স্বামীকে খুন করছে যুবতী, পাশাপাশি ছোট্ট ছোট্ট মেয়েরা লালসার শিকার হচ্ছে কামান্ধ পুরুষের। কথা শুনতে শুনতে আপনারা যে ছবি দেখছেন, সেটা অবশ্যই আপনাদের চেনা ছবি। কারন সোদপুরের এই ভয়াবহ এবং বিরল খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে গেছে রাজ্যবাসী। কিন্তু কি আছে এ ঘটনার পিছনে ? আমাদের তত্ত্ব তালাশে যে খবর উঠে এসেছে, সেটাই আপনাদের বলবো। সোদপুর মহেন্দ্রনগরের বাসিন্দা, একেবারে ছাপোষা ঘরের মেয়ে গীতা দাস কাজ করতেন কাশীপুরের ১টি বেসরকারী অফিসে। আর অভিযুক্ত সুভাষ দাসের বাড়ি বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়ায়। পেশায় গাড়ি চালক হিসেবে কিছুদিন চালাতেন পার্থপুরথেকে যে বাসটি ধর্মতলা যায়, সেই রুটের বাস। আর সেই বাসে করে মাঝে মাঝেই অফিসে যেতেন গীতা, বাসেই আলাপ সুভাষের সাথে। সুভাষ তখন হাড়োয়া থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকা শুরু করেছে খড়দহে।চলমান সেই প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল গীতার বাড়ির লোকজন। কিন্তু সেই আপত্তি অগ্রাহ্য করে বছর ছয়েক আগে বিয়ে করে গীতা ও সুভাষ। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই গীতা বুঝতে পারে, সে প্রতারিত হয়েছে, কারণ হাড়োয়াতেও সুভাষের একজন বিবাহিত স্ত্রী রয়েছেন। সেই সময় থেকেই শুরু হয় অশান্তি, কোনমতে গীতাকে বুঝিয়ে একসাথে থাকতে রাজি করে সুভাষ, বাসা বদল করে চলে আসে সোদপুরে। কিন্তু সেখানেও ২জনের মধ্যে চূড়ান্ত অশান্তি হতো বলেই জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। আরও জানা গেছে প্রায়শই সুভাষ গীতাকে খুনের হুমকী দিতো। শেষ পর্যন্ত দাম্পত্য কলহ এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, গীতা সুভাষকে ছেড়ে ফিরে যায় মহেন্দ্রনগরে। আর ঘটনার দিনেও গীতা সাইকেল করে সোদপুর স্টেশনেই যাচ্ছিলো অফিসে যাবে বলে, স্কুল রোডের বাই লেনে এই পুকুর পারে নির্জন জায়গায় তার পথ আটকায় সশস্ত্র সুভাষ। তারপর শুরু হয় সেই মারাত্মক ঘটনা, যে ছবি দেখে আপনারা ইতিমধ্যেই শিহরিত হয়েছেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গীতার, যে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো সুভাষকে, আর এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এক বেইমান প্রেমিক, যে নিজের পরিবারের কথা লুকিয়ে ঠকিয়েছিলো একজন নিষ্পাপ যুবতীকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *