শেষ মুহূর্তে মেরিনোর বাজিমাত! বেলজিয়ামকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন
ফ্যাবিয়ান রুইজের গোলের পর সমতা ফেরায় বেলজিয়াম, কিন্তু ৮৮ মিনিটে বদলি নেমেই জয়সূচক গোল মিকেল মেরিনোর। ২-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের শেষ চারে লা রোজা।

স্পোর্টস ডেস্ক : বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা করে নিলো স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ চার বা সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল স্প্যানিশ ফুটবল দল, যা তাদের টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শনে স্পেনের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। খেলার ৩০ মিনিটের মাথায় ফ্যাবিয়ান রুইজ দলকে লিড এনে দেন। আক্রমণের সূত্রপাত হয়েছিল ডানদিক দিয়ে লামিন ইয়ামালের পা থেকে। সেখান থেকে বল বাড়িয়ে দেওয়া হয় পেড্রো পোরোকে, যিনি বক্সের ভেতর দিয়ে একটি নিখুঁত ক্রস প্রদান করেন। ওলমোর সেই শটটি আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কুর্তুয়া। দানি ওলমোর পরাস্ত হলেও ফিরতি বলটি ফার্স্ট টাচে সরাসরি জালে জড়ান ফ্যাবিয়ান রুইজ। গোল হজম করার পর বেলজিয়াম দমে না গিয়ে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ করতে শুরু করে। এরপর ৪১ মিনিটে দি ক্যাতেলেয়ার একটি দুর্দান্ত হেডে গোল করে স্কোরলাইন ১-১ সমতায় আনেন। ডানদিক থেকে ক্যাসট্যাগনের করা একটি ক্রস থেকে উড়ন্ত হেডে বেলজিয়ামের স্ট্রাইকারের সেই গোলটি ছিল অত্যন্ত কার্যকর। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন সেই শটটি রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। এই গোলটির মাধ্যমেই টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো গোল হজম করার রেকর্ড হলো স্প্যানিশ রক্ষণভাগের।
পুরো ম্যাচটি এতটাই গতিময় ছিল যে দর্শকদের চোখের পলক ফেলা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ম্যাচের এক পর্যায়ে স্পেন আক্রমণ করলে অন্য পর্যায়ে বেলজিয়াম পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল। ম্যাচের বেশ অনেকটা সময় ধরে স্পেন তাদের আক্রমণাত্মক শৈলী বজায় রেখে একটানা চাপ সৃষ্টি করে গিয়েছে।
বিরতির পর খেলাটি আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে আরও জমে ওঠে, তবে গোল করার ক্ষেত্রে উভয় দলই কিছুটা হিমশিম খাচ্ছিল। লামিন ইয়ামাল এবং মিকেল ওয়ারজাবাল একাধিকবার নিশ্চিত গোল করার সুযোগ পেলেও বেলজিয়ামের গোলরক্ষক যেন দলের জন্য একটি অভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত থিবো কুর্তোয়া চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এবং বদলি গোলরক্ষক হিসেবে সেনে ল্যামেন্সকে নামানো হয়, যা ছিল এই ম্যাচের প্রধান টার্নিং পয়েন্ট। অন্যদিকে স্পেনের কোচ পেদ্রি, ফেরান তোরেস এবং নিকো উইলিয়ামসের পর ৮৬ মিনিটে মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামান। মাঠে নামার মাত্র দু’মিনিটের মধ্যেই মেরিনো গোল করে দলকে জয় এনে দেন। ফলে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রবেশ করল স্পেন, অন্যদিকে লড়াই করেও বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হলো বেলজিয়ামকে।
উল্লেখ্য যে, মাত্র চার দিন আগে শেষ মুহূর্তের একটি গোলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন চূর্ণ করে দিয়েছিলেন এই স্প্যানিশ দল। এবার বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মিকেল মেরিনো ঠিক সেই একই কাজ করে দেখালেন।



