খুব সাবধান! তীব্র গরমে ভয় ধরাচ্ছে ‘হাই হিট ইনডেক্স’!
দিনের বেলায় কড়া রোদে বাইরে বেরোলেই হাঁসফাঁস অবস্থা । কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আবহাওয়ার তাপমাত্রা (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং তার সঙ্গে মারাত্মক আর্দ্রতার (৬৩%) যে মিশ্রণ, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘হাই হিট ইনডেক্স’।
নিজস্ব সংবাদদাতা : দাবদাহে পুড়ছে বাংলা, তাপমাত্রা ক্রমশই বাড়ছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী কয়েক পশলা বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও , তিলোত্তমার তীব্র গরম থেকে রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করলেও বাস্তবে কলকাতায় অনুভূত হচ্ছে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো গরম অর্থাৎ ফিলস লাইক ছুঁয়ে ফেলছে ৪ এর ঘর। দিনের বেলায় কড়া রোদে বাইরে বেরোলেই হাঁসফাঁস অবস্থা । কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আবহাওয়ার তাপমাত্রা (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং তার সঙ্গে মারাত্মক আর্দ্রতার (৬৩%) যে মিশ্রণ, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘হাই হিট ইনডেক্স’। এর অর্থ হল, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে শরীর ঘামার পরেও সহজে শুকাচ্ছে না, ফলে শরীরের নিজস্ব শীতলীকরণ প্রক্রিয়া বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। এই সময় সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
এই পরিস্থিতিতেই কলকাতার চিকিৎসকরা ‘হাই হিট ইনডেক্স’ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছেন। ‘হাই হিট ইনডেক্স’ আসলে কী? বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘হাই হিট ইনডেক্স’ হলো এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে বাতাসের প্রকৃত তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা মিলিত হয়ে শরীরে তার থেকেও অনেক বেশি গরম অনুভূত হয়। এর ফলে যেকোনো মানুষের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তাই আগে থেকেই সাবধান করা হয়েছে।
এর ফলে কী কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে?
হিটস্ট্রোক : ‘হাই হিট ইনডেক্স’-এর কারণে হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তীব্র রোদে বেশিক্ষণ থাকলে শরীরের ভেতরের এবং বাইরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। শরীরের কোষের মধ্যে থাকা প্রোটিনগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়, প্রোটিন জমাট বেঁধে যায়,’প্রোটিন কোয়াগুলেশন’ হয়। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ দ্রুত বিকল হয়ে যেতে পারে,হৃদপিণ্ড সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে যায় এবং অর্গান ফেইলিওর বা মৃত্যুর ঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হতে পারে। তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি সকলেরই থাকে, তবে বয়স্ক, অল্পবয়সী এবং যাদের দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
ডিহাইড্রেশন: এই আবহাওয়ায় ডিহাইড্রেশনের সমস্যা কমবেশি সকলেরই দেখা যায়। শরীরে জলের অভাব হলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং প্রস্রাব করার সময় জ্বালাভাব হতে পারে। ক্রনিক কিডনির রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এছাড়াও হিট এক্সজশন (Heat Exhaustion) ও হিট ক্র্যাম্পস (Heat Cramps) এর মতো সমস্যাও দেখা যাচ্ছে।
হিট এক্সজশন (Heat Exhaustion): হিটস্ট্রোকের ঠিক পূর্ববর্তী অবস্থা হলো হিট এক্সজশন। এই পরিস্থিতিতে শরীর অতিরিক্ত ঘামতে শুরু করে, যার ফলস্বরূপ শরীর থেকে জল এবং প্রয়োজনীয় লবণের মাত্রা দ্রুত হ্রাস পায়। এই কারণে ক্লান্তি অনুভব করা, মাথা ধরা, মাথা ঘোরানো এবং বুকের ধড়ফড়ানির মতো বিভিন্ন উপসর্গগুলি শরীরের মধ্যে প্রকাশ পায়।
হিট ক্র্যাম্পস (Heat Cramps): যখন অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে জল এবং লবণের মাত্রা কমে যায়, তখন হাত, পা এবং পেটের পেশিগুলিতে অসহ্য যন্ত্রণা এবং টান অনুভূত হতে পারে। এই পরিস্থিতিটি হিট ক্র্যাম্পস নামে পরিচিত।
পেটের রোগ ও জলবাহিত সংক্রমণ: গ্রীষ্মকালে বাইরের খাবার খেলে পেটের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। এই সময়ে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং টাইফয়েডের মতো রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই এই সময় বিশেষভাবে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
গ্রীষ্মের এই তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে তীব্র রোদে প্রয়োজন ছাড়া না বেরোনোই ভালো।
