পশ্চিমবঙ্গ

CITUর নেতৃত্বে সাধারণ হকারদের সমবেত প্রতিরোধের সামনে বেলঘড়িয়ায় পিছু হঠতে হলো রেল প্রশাসনকে

এদিন সকাল থেকেই বেলঘড়িয়া স্টেশন চত্বর, বিশেষ করে ৪ নম্বর প্লাটফর্ম ও সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায় একদিকে সিপিআইএমের শ্রমিক সংগঠন CITU র নেতৃত্বে শতাধিক হকার, অন্য দিকে রেল পুলিশের বিশাল বাহিনী কার্যত মুখোমুখি। CITU নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জী ও সায়নদীপ মিত্রের নেতৃত্বে স্টেশন চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ব্যবসা করে দিন গুজরান করা হকারেরা মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে জড়ো হয়েছেন উচ্ছেদের বিরুদ্ধে। 

নিজস্ব সংবাদদাতা : এবার সাধারণ হকারদের সমবেত প্রতিরোধের সামনে পিছু হঠতে হলো রেল প্রশাসনকে। রেল পুলিশের পক্ষ থেকে ২১শে মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে বেলঘড়িয়া স্টেশন চত্বরে থাকা সমস্ত হকারকে তাদের তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে যাবার নির্দেশ দিয়ে একটি নোটিশ দেয়া হয়েছিলো। আর সেই মতো এদিন সকাল থেকেই বেলঘড়িয়া স্টেশন চত্বর, বিশেষ করে ৪ নম্বর প্লাটফর্ম ও সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায় একদিকে সিপিআইএমের শ্রমিক সংগঠন CITU র নেতৃত্বে শতাধিক হকার, অন্য দিকে রেল পুলিশের বিশাল বাহিনী কার্যত মুখোমুখি। CITU নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জী ও সায়নদীপ মিত্রের নেতৃত্বে স্টেশন চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ব্যবসা করে দিন গুজরান করা হকারেরা মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে জড়ো হয়েছেন উচ্ছেদের বিরুদ্ধে।
শিয়ালদহ মেইন লাইনে এখন ৪টি ট্র্যাক রয়েছে, রেল সূত্রে জানানো হয় বেলঘড়িয়াতে ৫ম ট্রাকের ব্যবস্থা করবার জন্য তারা এই উচ্ছেদ কর্মসূচি নিয়েছে, আর হকারদের দাবী, ৫ম ট্রাকের ব্যবস্থা করবার প্রস্তাবে তাদের কোনো আপত্তি নেই, তারা রেলকে সর্বত ভাবে সহযোগিতা করবেন সেই কাজে, কিন্তু রেল লাইন সম্প্রসারণের নাম হকার উচ্ছেদ করে রেল স্টেশন চত্বর বহুজাতিক সংস্থার হাতে তুলে দিতে চাইছে, যেটা তারা কিছুতেই হতে দেবেন না। রেলের সাথে সহযোগিতা করতে বেশ কিছু বন্ধ গুমটি হকারেরা নিজেরাই ভেঙে দেন। তবে বিষয়টি নিয়ে রেল কতৃপক্ষের সাথে CITU নেতৃত্ব আলোচনা করতে চাইলে অভিযোগ ওঠে অসহযোগিতার, ছড়ায় উত্তেজনা। তবে হকারদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে এদিন উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেই এলাকা ছাড়ে রেল পুলিশ। আর এই উচ্ছেদ কর্মসূচী সম্পর্কে এক রেল হকার রাজা রায় চৌধুরীর অভিযোগ, রেল কতৃপক্ষ তাদের মতো গরীব হকারদের হঠিয়ে সেখানে বড় বড় ব্যাবসায়ীদের জায়গা করে দিতে চাইছে, যেটা তারা কিছুতেই মানবেন না।
আর CITU নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জীর অভিযোগ, সারা রাজ্যে সমস্ত স্টেশনগুলিকে গরীব হকার মুক্ত করে সরকার চাইছেন আদানি-আম্বানীদের লীলাক্ষেত্র তৈরী করতে। আর লক্ষ লক্ষ মানুষের পেতে লাথি মেরে সরকারের এই কর্মসূচী তারা কিছুতেই কার্যকর হতে দেবেন না।
CITU র প্রতিরোধে এদিন ফিরে গেলো বটে রেল পুলিশ, কিন্তু প্রশ্ন রয়েই গেলো লক্ষ লক্ষ রেল হকারদের ভবিষৎ নিয়ে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *