কলকাতা

মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস পরিষেবা, তবে সাথে রাখতে হবে কোন কোন নথি ? – জেনে নিন

কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা মহিলারাই বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াত করার সুবিধা পাবেন। তবে এখানে একটি প্রশ্ন উঠছে যে, কন্ডাক্টর কিভাবে বুঝবেন যে মহিলা যাত্রী বাসে উঠছেন তিনি  পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা কিনা?

নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বেই ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; এবং তারা ঘোষণা করেছিল যে যদি তারা সরকার গঠন করতে পারে, তবে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে। সেই কথা মাথায় রেখে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে যে, আগামী পয়লা জুন থেকে রাজ্যের মহিলারা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করার সুবিধা পাবেন। এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য, রাজ্য সরকার একটি বিস্তারিত গাইডলাইন তৈরি করেছে। যদিও এই গাইডলাইন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, পরিবহন দফতর সূত্রে জানা গেছে যে, মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিধি তৈরি করা হয়েছে। এই বিধিতে পরিবহন নিগমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং পরিবহন দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সরকারি বাসের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তা ও আধিকারিকগণও উপস্থিত ছিলেন। এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকটি মূলত সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম ও শর্তাবলী আরোপ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বৈঠক সূত্রে মারফত জানা গেছে, কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা মহিলারাই বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াত করার সুবিধা পাবেন। তবে এখানে একটি প্রশ্ন উঠছে যে, কন্ডাক্টর কিভাবে বুঝবেন যে মহিলা যাত্রী বাসে উঠছেন তিনি  পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা কিনা?
প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জন্য যে ১১টি পরিচয়পত্র রয়েছে, তার মধ্যে থেকে যে কোনো একটি পরিচয়পত্র সরকারি বাসে যাতায়াতের সময় সঙ্গে রাখতে হবে। এর দ্বারা যিনি সরকারি বাসে যাতায়াত করছেন, তাকে প্রমাণ করতে হবে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক।
এরপর কন্ডাক্টর তার নিজের টিকিট পাঞ্চিং মেশিন থেকে মহিলা যাত্রীর জন্য একটি কুপন ইস্যু করবেন। প্রত্যেক মাসে যত সংখ্যক টিকিট ইস্যু করা হবে, সেই অনুযায়ী রাজ্য সরকার একটি গড় হিসেব করে পরিবহন দফতর অথবা নিগমকে সেই পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে।
তবে এই দিনের বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিচয় পত্র নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ কন্ডাক্টরের পক্ষে কোনটা আসল এবং কোনটা নকল, তা যাচাই করার মতো সময় বা পরিস্থিতি সবসময় থাকে না। যদিও প্রাথমিকভাবে এই নিয়ম চললেও , পরবর্তীতে পরিবহন দফতর থেকে ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী মহিলা বাসিন্দাদের জন্য একটি ‘পিঙ্ক কার্ড’ অথবা ‘স্মার্ট কার্ড’ ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে কী কী নথিপত্র লাগবে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

  • আধার কার্ড
  • ভোটার পরিচয়পত্র (EPIC)
  • ভি বি-গ্রামজি জব কার্ড (গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড)
  • আয়ুষ্মান ভারত
  • ড্রাইভিং লাইসেন্স
  • প্যান কার্ড
  • পাসপোর্ট
  • ছবি-সহ পেনশনের নথি
  • স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত সরকারি পরিচয়পত্র
  • পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্য যেকোনো পরিচয়পত্র এবং সাম্প্রতিককালের তোলা ছবি।

পরিবহন দপ্তরের সূত্র মারফত খবর, এই কার্ডের আপ্লাই এই,কার্ড বানানো ও বিতরণ করার কাজটি বেশ সময় সাপেক্ষ। সেই কারণে, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ চলবে।

 

 

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *