পশ্চিমবঙ্গ

শিক্ষা- স্বাস্থ্য- শিল্প ক্ষেত্রে হরেকরকম ঘোষণা, একনজরে তিন দলের ইস্তেহারের ইতিবৃত্তান্ত

চিরাচরিতভাবে প্রচারের অস্ত্র কখনো নিজের দলের ইস্তেহার আবার কখনো বিরোধী দলের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ইতিমধ্যেই নিজেদের ইস্তেহার প্রকাশ করেছে রাম-বাম- ডান সবপক্ষই। আর সেই ইস্তেহারগুলির ইতিবৃত্তান্ত ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের শিক্ষা- স্বাস্থ্য-শিল্পের ভিত পোক্ত করতে আগ্রহী প্রত্যেকেই।

৭এ নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে নির্বাচনের (Assembly Election) দামামা বেজে গিয়েছে। জোর কদমে প্রচার চালাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। আর চিরাচরিতভাবে তাদের প্রচারের অস্ত্র কখনো নিজের দলের ইস্তেহার আবার কখনো বিরোধী দলের দুর্নীতির খতিয়ান। ইতিমধ্যেই নিজেদের ইস্তেহার প্রকাশ করেছে রাম-বাম- ডান সবপক্ষই। আর সেই ইস্তেহারগুলির ইতিবৃত্তান্ত ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের শিক্ষা- স্বাস্থ্য-শিল্পের ভিত পোক্ত করতে আগ্রহী প্রত্যেকেই। শাসক দলের ইস্তেহারের পোশাকি নাম ‘১০ প্রতিজ্ঞা।’ সেই প্রতিজ্ঞার নির্যাস করলে দেখা যাচ্ছে,২০২৬ এ ফের ক্ষমতায় এলে রাজ্যের বিদায়ী শাসক দল (TMC) দুয়ারে সরকার’ এর ধাঁচে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ প্রকল্প চালু করবে। সেই সঙ্গে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। সেই সঙ্গে বাংলাকে বাণিজ্যের দিক থেকে সমৃদ্ধ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ ঘাসফুল শিবির। এছাড়াও ৩০ হাজার কোটি টাকার কৃষি বাজেট, প্রতি ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল, কাঁচা বাড়ি পাকাপোক্ত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে তাদের ইস্তেহারে।

অন্যদিকে বঙ্গের ভোটের হাওয়া বিজেপির (BJP) পালে টানতে মরিয়া মোদী-শাহ জুটি। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় একের পর জনসভা সারছেন তারা। সেই সঙ্গে তাদের দল নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলে কি কি বিষয়ে নজর দেওয়া হবে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে (Election Manifesto)। পদ্ম শিবিরের নির্বাচনী ইস্তেহারের নাম ‘সংকল্প পত্র।’ সেই সংকল্প অনুযায়ী, রাজ্যের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশ নিয়ে যে তাদের দল ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ নেবে ইস্তেহারে প্রকাশের সময় সেকথাই স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলায় এককোটি কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বরাবরই অঙ্গীকারবদ্ধ পদ্ম শিবির। তাই ইস্তেহার অনুযায়ী, তারা ক্ষমতায় এলে সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন লাঘু হবে। পাশাপাশি নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ নামের মহিলা ব্যাটেলিয়ান তৈরী, সীমান্তে গরু পাচার রোধ, কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা প্রদান,সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জোলি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বিজেপির তরফে। ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থান, মহিলাদের স্বাস্থ্য পরিষেবা বৃদ্ধির মতো সংকল্প করেছে পদ্ম শিবির।

শিল্প ও রাজ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে সর্বদাই সোচ্চার সিপিআইএম (CPIM)।তাই তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে যে শিল্প নিয়ে বড় ঘোষণা থাকবে তা বলাই বাহুল্য। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি নূন্যতম ৭০০ টাকা, বঙ্গে ভারী ও মাঝারি শিল্পের হাল ফেরানোর উদ্যোগ সহ শিল্প ক্ষেত্রে একঝাঁক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লাল শিবির। সেই সঙ্গে বাম ক্ষমতায় এলে নারী নিরাপত্তা, প্রবীণদের জন্য ‘স্বাস্থ্য সেবা’ প্রকল্প এবং মাসিক ৬০০০ হাজার টাকা করে বার্ধক্য ভাতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ইস্তেহার বলছে,সরকার গঠন করলে সিপিআইএম সংখ্যালঘু ও আদিবাসী এলাকায় স্কুল,কলেজ ও হস্টেল তৈরি করার দিকে নজর দেবে।

সবমিলিয়ে তিন রাজনৈতিক দলের ইস্তেহারের ইতিবৃত্তান্ত বলছে, শিক্ষা- স্বাস্থ্য- শিল্প এই তিন দিকেই নজর দেবে তারা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পালে হাওয়া দিয়ে ভোট বৈতরণী পার করতে প্রস্তুত নানান রাজনৈতিক দল।কাদের ইস্তেহার সবচেয়ে ভরসাযোগ্য বলে মনে হবে আমজনতার ? উত্তর মিলবে ভোটবাক্সেই।

 

 

 

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *