শেষ রবিবাসরীয় প্রচারে ঝড় তুললো রাম-বাম-ডান, সপ্তমে উঠলো রাজনীতির সুর
আজ পানিহাটীর সিপিআইএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তের সমর্থনে সোদপুর অমরাবতীর ময়দানে জনসভা করেছেন সিপিআইমের রাজ্য কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। অন্যদিকে বরানগরের তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা ব্যানার্জীর সমর্থনে প্রচার সেরেছেন দেব। সবমিলিয়ে রাজ্যে দ্বিতীয় এবং শেষ দফার ভোটের আগে শেষ রবিবাসরীয় প্রচারে কার্যত ঝড় উঠলো।
৭এ নিউজ ডেস্ক: দোরগোড়ায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচন (Election 2026) । তার আগে শেষ রবিবাসরীয় প্রচারে ঝড় তুলছেন রাজনীতিকরা।একদিকে আজ দিনভর ঠাসা কর্মসূচি ছিল নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের, অন্যদিকে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রচারে ব্যস্ত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পিছিয়ে নেই রাম-বাম-ডান কোনো পক্ষেরই প্রার্থীরা। আগামী ২৯ শে এপ্রিল রাজ্যের মোট ১৪২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। আর কমিশনের নিয়ম মতো, আগামীকাল বিকেল ৩ টে পর্যন্তই জনসংযোগ সারতে পারবে রাজনৈতিক দলগুলি। তাই দীর্ঘ ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচির শেষ বেলায় সপ্তমে উঠেছে ভোটবঙ্গের রাজনীতির সুর। আজ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সভা ছিলো বনগাঁর ঠাকুরনগরে। আর তারপর হরিপালে ছিলো তাঁর দ্বিতীয় জনসভা। সেই সভা থেকেই ঘাসফুল শিবিরকে নানান ইস্যুতে নিশানা করেছেন তিনি। মোদী বলেন,‘‘শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের মন্ত্রী হাজার হাজার যুবকের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছেন। সংবেদনশীল সরকার হলে নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করত। কিন্তু আদালতকে এখানে তদন্তের নির্দেশ দিতে হয়েছে। তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্য।’’ এদিনের জনসভায় মহিলা ভোটারদের জন্যও ‘ভোকাল টনিক’ দিয়েছেন মোদী। একদিকে তিনি যেমন সন্দেশখালির প্রসঙ্গ তুলেছেন তেমনি পানিহাটীতে (Panihati) অভয়ার মাকে প্রার্থী করার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। হরিপালের সভা থেকে নিজের ‘গ্যারান্টি’র কথা শুনিয়েছেন মোদী। তিনি জানান, ‘‘মহিলারা প্রতি বছর যাতে এক লক্ষ টাকার বেশি আয় করতে পারেন সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ৭৫ লক্ষ মহিলাকে সুবিধা দেওয়া হবে। ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ব্যাঙ্ককে গ্যারান্টি দেবে আপনাদের ভাই মোদী।’’ একদিকে যখন প্রচারে ঝাঁজ বাড়াচ্ছেন মোদী তখন অন্যদিকে ফের অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় সরাট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নদিয়ায় এদিন জোড়া জনসভা ছিল তাঁর। আর সবশেষে বারাসতে রোড শো করার কোথাও রয়েছে শাহের।কলকাতাতেও রোড শোয়ে শামিল হবেন প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi)।
পদ্ম শিবিরের দুই প্রধান নেতৃত্ব যখন জনসভায় ব্যস্ত তখন নিজের নিবার্চনী কেন্দ্রে পদযাত্রা করলেন মমতা। সেই সঙ্গে আরও ৪ টি জনসভাও রয়েছে তাঁর আজকের কর্মসূচিতে। ভবানীপুরের মনসাতলা রোড ক্রসিংয়ের সভামঞ্চ থেকে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন নিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “এখানে এখন যে পুলিশ নিয়োগ হয়েছে, সে পুরো বিজেপির। এটা ভাববেন না, আমার কথা শুনে অত্যাচার করছে। এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে আছে তো, তাই আমাকে ভুলে গিয়েছে। ভুলে গেলে ভুলতে দিন। ওদের কাজ ওদের করতে দিন।” একই সঙ্গে ইভিএম নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। আর একের পর এক হেভিওয়েট রাজনীতিকরা যখন সভা থেকে রোড শো সারছেন তখন নিজ নিজ এলাকায় শেষ মুহূর্তের রবিবাসরীয় প্রচারে ব্যস্ত প্রার্থীরাও। যেমন আজ পানিহাটীর সিপিআইএম (CPIM) প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তের সমর্থনে সোদপুর অমরাবতীর ময়দানে জনসভা করেছেন সিপিআইমের রাজ্য কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। অন্যদিকে বরানগরের তৃণমূল (TMC) প্রার্থী সায়ন্তিকা ব্যানার্জীর সমর্থনে প্রচার সেরেছেন দেব। সবমিলিয়ে রাজ্যে দ্বিতীয় এবং শেষ দফার ভোটের আগে শেষ রবিবাসরীয় প্রচারে কার্যত ঝড় উঠলো। সেই সঙ্গে চললো এক রাজনৈতিক দলের তরফে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমন শানানোর পালাও।আর সে সবের শেষে রইলো একরাশ জয়ের প্রত্যয়। বঙ্গের মসনদে কে আসবে ? উত্তর মিলবে আগামী ৪ ঠা মে।



