আন্তর্জাতিকখেলা

এমবাপের জাদুতে মরক্কোকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স, টানা তৃতীয়বার শেষ চারে ‘লে ব্লু’

পেনাল্টি মিস করেও গোল ও অ্যাসিস্টে ম্যাচের নায়ক কিলিয়ান এমবাপে। ২-০ গোলে হারিয়ে মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গ, এবার ফাইনালের লক্ষ্যে ফরাসি বাহিনী।

স্পোর্টস ডেস্ক : সেমিফাইনালে ফ্রান্স, মরক্কোর শক্তিশালী প্রতিরোধ পুরোপুরি ভেঙে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করলো ফ্রান্স। পেনাল্টি মিস করলেও একটা সুন্দর গোল দর্শকদের উপহার দিলেন কিলিয়ান এমব্যাপে। এরকমভাবেই জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখা যেতে পারে ফ্রান্সকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কো – ফ্রান্স উভয় দলই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ঢঙে খেলতে শুরু করেছিল। তবে পুরো খেলার দিকে নজর রাখলে দেখা যাবে মরক্কোর তুলনায় ফ্রান্সের আক্রমণের তীব্রতা ও ঝাঁঝ অনেক বেশি ছিল। ম্যাচের মাত্র চার মিনিটের মাথায় দায়োত উপামেকানোর একটি অত্যন্ত জোরালো হেড আক্রমণ থেকে বাঁচিয়ে দেন মরক্কোর অতন্দ্র প্রহরী গোলকিপার ইয়াসিন বোনো। এরপর বহুবার ফ্রান্সের থেকে আক্রমণ এলেও তা সহজেই প্রতিহত করেন বেনো।বলাই যাই ,  বোনো একাই মরক্কোর রক্ষণভাগে একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
ম্যাচের ২৫ মিনিটের মাথায় ফ্রান্স একটি পেনাল্টি পায়। মরক্কোর নিজেদের অর্ধে থাকা আশরফ হাকিমিরের কাছ থেকে বলটি কেড়ে নেন ডেজিরে ডুয়ে। এরপর তিনি বলটি পাস করে দেন কিলিয়ান এমবাপেকে। এমবাপে বল নিয়ে অনেকটা দৌড়ে সরাসরি মরক্কোর পেনাল্টি বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে তাকে আটকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নৌসের মাজরাউই ফাউল করেন। ফাউলটি এতটাই স্পষ্ট ও অনস্বীকার্য ছিল যে, রেফারির তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে মাজরাউই নিজেও কোনো বিশেষ প্রতিবাদ বা আপত্তি জানাননি। তবে দুর্ভাগ্যবশত কিলিয়ান এমবাপে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।
পেনাল্টি মিস করার পরেও ফ্রান্স বারবার গোল করার সুযোগ তৈরি করতে থাকে। উসমান দেম্বেলের একাধিক শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং দু-একটি শট বাঁচিয়ে দেন বোনো। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লুকাস ডিগনের একটি দূরপাল্লার জোরালো শট সরাসরি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, ফলে গোল হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায় মরক্কো। অন্যদিকে, মরক্কো মূলত কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে খেলেছিল। এই কৌশলে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ বেশ কয়েকবার গোল করার সুযোগ তৈরি করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত কোনো গোল করতে সক্ষম হয়নি।
গোলশুন্য অবস্থাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ। খেলার দ্বিতীয়ার্ধেও ফ্রান্সের ফুটবলারদের মধ্যে সেই একই আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী মানসিকতা স্পষ্টভাবে বজায় ছিল। ম্যাচের শুরুর দিকে কিছুটা সময় মরক্কো দাপট দেখানোর চেষ্টা করলেও, ধীরে ধীরে ফ্রান্স নিজেদের খেলার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে। এরপর অতি অল্প সময়ের মধ্যে, মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করে তারা মরক্কোর রক্ষণভাগকে কার্যত বিধ্বস্ত করে দেয়। ম্যাচের ৬০ মিনিটে এক দুর্দান্ত ও শক্তিশালী শটের মাধ্যমে মরক্কোর জালে বল পাঠান ফরাসি অধিনায়ক এমবাপে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া সেই বিধ্বংসী শটটি আটকানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ পাননি মরক্কোর গোলরক্ষক বোনো। এমবাপে মরক্কোর পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে বলটি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন এবং সেই মুহূর্তে আশেপাশে বেশ কয়েকজন মরক্কোর ফুটবলার অবস্থান করছিলেন। এমবাপে বলটি নিয়ে ডান দিকে সামান্য কাট করে শটটি নেন, যা বোনো উড়ে গিয়েও রুখতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের এতক্ষণ পর্যন্ত মরক্কো ফ্রান্সকে খুব একটা সুযোগ বা জায়গা দেয়নি, কিন্তু এমবাপে একটি সুযোগ আদায় করে নিয়ে গোলটি দেন।
ঠিক এর ছয় মিনিট পরেই উসমান ডেম্বেলে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। এই গোলের ক্ষেত্রেও এমবাপের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। বল নিয়ন্ত্রণ করতে করতে এমবাপের অত্যন্ত নিখুঁত ও গতিশীল দৌড় মরক্কোর ফুটবলারদের বিভ্রান্ত করে দেয়, যার ফলে খেলার মাঠের একটি অংশ ফাঁকা হয়ে যায় এবং সেখানে ডেম্বেলে অবস্থান করছিলেন। এমবাপে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাঁকে পাস দিয়ে সাহায্য করেন এবং সেই সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পিএসজির এই উইঙ্গার ফ্রান্সের জন্য দ্বিতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন।
শেষ পর্যন্ত, ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল দাঁড়ালো ২-০, ২ গোলে জিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলো ফরাসি-বাহিনী। আর এই জয়ের মূল নায়ক হিসেবে ইতিহাস মনে রাখবে কিলিয়ান এমবাপেকে, আর তার সাথে দোহার হিসেবে উসমান ডেম্বেলেকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *