কলকাতা

ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে ৩০০০ বোমা উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য, হাইকোর্টে রুজু হলো জরুরি মামলা

রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একের পর এক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, পুলিশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০০-এর কাছাকাছি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে এত বৃহৎ সংখ্যায় বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা পর্যন্ত অশনি সংকেত দেখতে পাচ্ছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। উত্তরবঙ্গের নির্বাচনে কিছু বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটলেও, বুথ দখল এবং রক্তপাতের মতো গুরুতর অভিযোগ তেমন একটা পাওয়া যায়নি, বলা যেতে পারে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে প্রথম দফার নির্বাচন, কিন্তু দক্ষিণবঙ্গে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন এগিয়ে আসার সাথে সাথে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় হিংসার আশঙ্কা করছেন।
আর এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একের পর এক বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, পুলিশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০০-এর কাছাকাছি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে এত বৃহৎ সংখ্যায় বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার হওয়ায় সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা পর্যন্ত অশনি সংকেত দেখতে পাচ্ছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুল পরিমাণে বোমা কি তবে ভোট লুটের উদ্দেশ্যে অথবা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য মজুদ করা হয়েছিল? নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এতো বোমা মজুত হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, রাজ্যে ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এত বিপুল পরিমাণে বোমা উদ্ধার হওয়া আসলে প্রশাসনের দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে।
আর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই ভোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলার আবেদনকারীর মতে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে রাশি রাশি বোমা উদ্ধার হচ্ছে, তাতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। সেই জন্য, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ করা এখন সময়ের দাবি।
আইনজীবীরাও এই মামলার দ্রুত শুনানির জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সম্ভবত মঙ্গলবারের মধ্যেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।
বলা যেতেই পারে ,রাজ্যে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, পরিস্থিতি ততই জটিল আকার ধারণ করছে। একদিকে জনস্বার্থ মামলা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এবং অন্যদিকে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি, এই উভয় সংকটের মধ্যে দিয়েই রাজ্যের ভোট প্রক্রিয়া ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *