news

নেটপাড়ায় ঝড় তুলল ‘আরশোলার দল’, নিছকই মজা নাকি সিস্টেমের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদের প্রতীক ?

গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আদালতের একটি শুনানির সময় মন্তব্য করেন যে, কিছু বেকার যুবক-যুবতী আরশোলার মতো আচরণ করে। দেশের প্রধান বিচারপতির এহেন মন্তব্য ঘিরে চর্চা শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। নিন্দায় সরব হন নেটিজেনদের একাংশ। আর এরপরই প্রকাশ্যে আসে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এই রাজনৈতিক দলটি সম্প্রতি গঠিত হলেও মাত্র ৩-৪ দিনেই  তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য, যেখানে তিনি নব্য প্রজন্মকে নিয়ে কথা বলার সময় ‘আরশোলা’ (Cockroach) শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আদালতের একটি শুনানির সময় মন্তব্য করেন যে, কিছু বেকার যুবক-যুবতী আরশোলার মতো আচরণ করে। দেশের প্রধান বিচারপতির এহেন মন্তব্য ঘিরে চর্চা শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। নিন্দায় সরব হন নেটিজেনদের একাংশ। আর এরপরই প্রকাশ্যে আসে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এই রাজনৈতিক দলটি সম্প্রতি গঠিত হলেও মাত্র ৩-৪ দিনেই  তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তারা নিজেদেরকে “যুবকদের দ্বারা, যুবকদের জন্য এবং যুবকদের রাজনৈতিক মঞ্চ” হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে।ইতিমধ্যেই এই আরশোলা পার্টির পেজে 4 মিলিয়নের বেশি বেশি মানুষ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

ককরোচ জনতা পার্টির ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট
ককরোচ জনতা পার্টির ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট

সোশ্যাল মিডিয়া পেজ মারফত জানা গিয়েছে, অভিজিৎ দীপকে এই রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠাতা। ত্রিশ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ বিষয়ে অধ্যয়ন করছেন। এর আগে, ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি আম আদমি পার্টি (AAP)-এর সোশ্যাল মিডিয়া টিমে একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
একাধিক সাক্ষাৎকারে দীপকে উল্লেখ করেছেন যে, এই সম্পূর্ণ বিষয়টি প্রথমদিকে ছিল “পুরোপুরি আকস্মিক এবং মজার ছলে মাথায় আসা একটি চিন্তা”। তবে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ এতে যোগদান করার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে, এটি শুধুমাত্র একটি হাসির বিষয় নয়, বরং দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভেরও একটি প্রকাশ।
ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party)-র জনপ্রিয়তা মূলত সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর। ভারতের রাজনীতিতে নবনিযুক্ত এই দলটি ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার) এবং মিম সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে, সেইসঙ্গে Gen Z তথা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রচলিত হাস্যরস ব্যবহার করে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে

ইতিমধ্যেই এই দলটির একটি ওয়েবসাইটও খোলা হয়েছে, আর সেইখানেই এই  রাজনৈতিক দলটির পরিচয় দেওয়া হয়েছে এভাবে— যে তারা হলো “Voice of the lazy and unemployed” অর্থাৎ, “অলস ও বেকারদের কণ্ঠস্বর”। এছাড়াও বলা হয়েছে -A political party for the people the system forgot to count. অর্থাৎ তাদের দাবি, দেশের এমন সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করাই তাদের লক্ষ্য, যাদের দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিকাঠামোয় সাধারণত গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

ইচ্ছা থাকলেই আপনি এই দলে যোগদান করতে পারবেন না , এই দলে যোগদানের জন্য আপনার থাকতে হবে বেশকয়েকটি যোগ্যতা, যেগুলো অবশ্যইব্যঙ্গাত্মকভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে –

  • আবেদনকারীকে বেকার হতে হবে।
  • আবেদনকারীকে অলস হতে হবে।
  • আবেদনকারীকে সবসময় অনলাইনে সক্রিয় থাকতে হবে।
  • আবেদনকারীকে পেশাদারত্বের সঙ্গে রাগ অথবা অভিযোগ প্রকাশ করতে জানতে হবে।

তবে এই আরশোলার দল শুধুমাত্র ব্যঙ্গ করেই থেমে থাকছে না, তারা এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও যুক্ত করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জ্বলন্ত বিষয়ে তারা তাদের মতামত প্রকাশ করছে, যেমন পরীক্ষার দুর্নীতি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া, রাজনৈতিক দলবদল, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলোকে তারা তাদের ম্যানিফেস্টোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছে –
তাদের ম্যানিফেস্টোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—

  • সংসদ এবং মন্ত্রিসভায় ৫০ শতাংশ মহিলা সদস্যের জন্য আসন সংরক্ষণ করা।
  • দল পরিবর্তন করা সাংসদ ও বিধায়কদের ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা।
  • অবসর গ্রহণের পর কোনো প্রধান বিচারপতিকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নিযুক্ত না করা।
  • “গোদি মিডিয়া”-র সঙ্গে যুক্ত অ্যাংকরদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করা।
  • নির্বাচনে বৈধ ভোট বাতিল হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

এছাড়াও, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় প্রশ্ন এই মুহূর্তে এটাই যে, ককরোচ জনতা পার্টি শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ক্ষণিকের ট্রেন্ড বা অল্প সময়ের জন্য জনপ্রিয়তা, নাকি এটি আসলে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আন্দোলনের কোনো পূর্বাভাস বা ইঙ্গিত দিচ্ছে? , কারণ স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কতটা অসন্তোষ, নৈরাশ্য ও হতাশা সৃষ্টি করেছে, আর ঠিক এই কারণেই একদল তরুণ “Cockroach” শব্দটিকে আর অপমানজনক মনে না করে বরং এটিকে তাদের প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে।
মোটকথা, ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party) বর্তমানে শুধুমাত্র একটি জনপ্রিয় মিম অথবা মজার অনলাইন প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই — এটি ক্রমশই তরুণ প্রজন্মের ভেতরের জমে থাকা তিক্ত হতাশা, গভীর ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক অসন্তোষের একটি ডিজিটাল প্রকাশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। বিশেষত, জেন জি প্রজন্ম কর্মসংস্থানের অভাব, বিভিন্ন পরীক্ষার দুর্নীতি, রাজনৈতিক বিভাজন এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিশ্বাস হারানোর কারণে যে ভিন্ন পথে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে চাইছে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) তারই একটি নতুন দৃষ্টান্ত। এখন দেখার বিষয়, এই ‘ককরোচ’ আন্দোলন ভবিষ্যতে বাস্তব রাজনৈতিক মঞ্চে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *