news

যাদবপুর প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ মমতার, বললেন- ‘”এতটা নিচে নামতে পারেন?”

যাদবপুরের জনসভা থেকে ,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, "যাদবপুরের ক্যাম্পাসের ভেতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেওয়ালগুলোতে দেশবিরোধী কথা লেখা হচ্ছে। ছাত্রদের মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে। পড়াশোনা হচ্ছে না।" প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, "আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষা করতে চাই। যে সরকার নিজের রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষাকেন্দ্রকে রক্ষা করতে পারে না, তারা রাজ্যের ভবিষ্যৎ কী করে বাঁচাবে?"যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা : বাংলায় শেষ এবং দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পূর্বে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যজুড়ে একাধিক নির্বাচনী জনসভা করছেন। এদিন পানিহাটীর পাশাপাশি বারুইপুর এবং যাদবপুরে নির্বাচনী সভায় অংশ নেন তিনি। আর যাদবপুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই খোদ প্রধানমন্ত্রীর কথায় উঠে এলো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গ ,যা নিয়ে এই মুহূর্তে সম্মুখসমরে নেমেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী, সরগরম রাজ্য-রাজনীতি।

এদিন যাদবপুরের জনসভা থেকে ,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, “যাদবপুরের ক্যাম্পাসের ভেতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেওয়ালগুলোতে দেশবিরোধী কথা লেখা হচ্ছে। ছাত্রদের মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে। পড়াশোনা হচ্ছে না।” প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষা করতে চাই। যে সরকার নিজের রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষাকেন্দ্রকে রক্ষা করতে পারে না, তারা রাজ্যের ভবিষ্যৎ কী করে বাঁচাবে?” তিনি আরও বলেন, “একটা সময় ছিল যখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সারা বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে নেওয়া হত। এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছিল।”
আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ,যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর প্রশ্ন, “এতটা নিচে নামতে পারেন?” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের মন্তব্য করে মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের অপমান করেছেন। আর ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা মানেই সেটা অরাজকতা নয়। কার্যত বলা চলে যাদবপুরের পাশে দাঁড়িয়েছেন মমতা।

মোদীর মন্তব্যের সমালোচনায় মমতা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “জিজ্ঞেস করতে কষ্ট হচ্ছে—বিখ্যাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্কে এভাবে বলা যায়? এটাই কি আপনার শালীনতা এবং সৌজন্যবোধের ধারণা?” মুখ্যমন্ত্রী জানান, মোদী সরকারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে এনআইআরএফ র‍্যাঙ্কিংয়ে উপরের দিকে স্থান দেয়। আর প্রধানমন্ত্রী সেই প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠত্বকে খাটো করে অপমান করেছেন। মমতা লেখেন, “আপনি কি এত নিচে নেমে গিয়েছেন? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মেধা দিয়ে সুযোগ পেয়েছে। তারা ডিগ্রি নিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, প্রশ্ন করার ক্ষমতা নিয়ে বেরিয়েছে। এটা তো নৈরাজ্য নয়। এটাই শিক্ষা এবং এটাই শ্রেষ্ঠত্ব।”

মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক পোস্ট
মমতা ব্যানার্জীর ফেসবুক পোস্ট

নৈরাজ্য প্রসঙ্গে মমতার পাল্টা জবাব কেন্দ্রের বিভিন্ন ইস্যু, যে ইস্যুগুলিতে এর আগেও বারংবার সোচ্চার হয়েছে বিজেপি বিরোধী দলগুলি, মমতা লিখেছেন – নৈরাজ্য হলো : ছাত্রছাত্রীদের আওয়াজ স্তব্ধ করা, বুলডোজ়ারকে ক্ষমতার হাতিয়ার করা, কৃষকদের মৃত্যু ও কণ্ঠরোধ করা, ধর্ষকরা রাজনৈতিক কারণে মুক্তি পাওয়া, দরিদ্রদের পাওনা না দেওয়া, জাতিকে ধর্ম দিয়ে ভাগ করা এবং সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়া।

সবশেষে তিনি কার্যতই হুঙ্কারের সুরে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে বলেন, “শ্রী অরবিন্দের মতো মনিষীদের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাংলাকে কলঙ্কিত করবেন না।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *