পাখির চোখ ২য় দফার নির্বাচন, ভোটবঙ্গে বজ্র আঁটুনি কমিশনের,ভোটারদের জন্য থাকছে হেল্পলাইন নম্বরও
কেন্দ্রীয় বাহিনীর বলয়ে কার্যত মুড়ছে ৭ জেলা। আর এই আবহে আজ ভোটারদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে বাহিনী।ভোট দিতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে কিংবা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে বাহিনীকে জানানো যাবে। আর অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ময়দানে নামবেন কুইক রেসপন্স টিম। আজ সিআরপিএফের আইজি ( ওয়েস্ট বেঙ্গল সেক্টর ) মোট তিনটি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন।
৭এ নিউজ ডেস্ক: আগামীকাল রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটবঙ্গে বজ্রআঁটুনি নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)।শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন।তাই ইতিমধ্যেই সাধারণের সুবিধার্থে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই সঙ্গে বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার বিষয়ে রাজ্য পুলিশকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। প্রসঙ্গত মোটের ওপর নির্বিঘ্নে মিটেছে প্রথম দফার ভোট। তবে সেই নির্বাচনেও ঘটেছে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা।কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে মারধরের যে অভিযোগ ওঠে সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ তলব করছিলো কমিশন। এবারের দফার আগে আরও সাবধানী নির্বাচনী আধিকারিকেরা। তাই গত রবিবার আলিপুরের ‘ধনধান্য অডিটোরিয়ামে’ ভোটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক সারেন নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চ্ পদস্থ কর্তারা।
আগামীকাল মূলত নদিয়া, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান এই ৭ টি জেলার বিধানসভা আসনগুলোতে ভোট রয়েছে। সেই জেলাগুলিতে মোট ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বাহিনী থাকবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। সুন্দরবন, বারুইপুর এবং ডায়মন্ডহারবার এই তিন পুলিশ জেলার অধীনে থাকবে ৪০৯ কোম্পানি বাহিনী।কলকাতা পুলিশের অধীনে ২৭৩ কোম্পানি,পূর্ব বর্ধমানে ২৬০ কোম্পানি এবং হুগলি গ্রামীণে ২৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে বাকী তিন জেলার ক্ষেত্রের একেবারে পুলিশ জেলা এবং কমিশনারেট এলাকা ধরে ধরে বাহিনী মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে।বারাসাত পুলিশ জেলায় ১১২ কোম্পানি, বনগাঁ পুলিশ জেলায় ৬২ কোম্পানি, বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে ৫০ কোম্পানি বাহিনী দায়িত্বে থাকবে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে ১৬০ কোম্পানি, হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি এবং হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটে ১১০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে।নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি এবং রানাঘাটে ১২৭ কোম্পানি বাহিনী থাকছে। সেই সঙ্গে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে ৮৩ কোম্পানি এবং আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে থাকবে ১৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। সবমিলিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বলয়ে কার্যত মুড়ছে ৭ জেলা।
এই আবহে আজ ভোটারদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে বাহিনী।ভোট দিতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে কিংবা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে বাহিনীকে জানানো যাবে। আর অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ময়দানে নামবেন কুইক রেসপন্স টিম। আজ সিআরপিএফের আইজি ( ওয়েস্ট বেঙ্গল সেক্টর) মোট তিনটি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন। দুটি মোবাইল নম্বর- ৮৪২০২৭২১০১, ৮৪২০২৭২৩৪৩ ও একটি ল্যান্ডলাইন নম্বর-০৩৩২৩৬৭১১১৭ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে ভোটের দিন কোনো গণ্ডগোল হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সাথে নিয়ে সামাল দিতে হবে সেই পরিস্থিতি। রাজ্য পুলিশকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে কমিশন। এবারের ভোটে ‘ছাপ্পা’ রুখতে ‘রেডি’ কমিশন। ছাপ্পা দিতে গিয়ে ধরা পড়লে অভিযুক্তের ১ বছরের কারাদন্ড হবে – এমনটাই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে। আর প্রতিটা বুথ যে কড়া প্রহরা দেবে বাহিনীর জওয়ানরা তা তো বলাই বাহুল্য। অতি সম্প্রতি দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে অতিরিক্ত ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষণ নিয়োগ করা হয়। তাই কালকের নির্বাচন (Election 2026) অবাধ ও হিংসামুক্ত করাতে কার্যত তৎপর কমিশন। শেষমেশ কি বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো হবে ? নাকি এক সন্ত্রাসহীন ভোট দেখবে বাংলা ? উত্তর মিলবে আগামীকালই।



